কাদাকনাথ মুরগিতে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন ফাতেমা : সহায়তায় পিকেএসএফ, সহযোগিতায় প্রয়াস

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পালশা মিশন গ্রাম। এই গ্রামেরই এক গৃহবধূ ফাতেমা বেগম। স্বপ্ন দেখছিলেন সফল একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হওয়ার। নিজ চেষ্টা আর সহযোগিতা নিয়ে আজ তিনি একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তায় পরিণত হয়েছেন। গড়ে তুলেছেন কাদাকনাথ বা ওষুধি মুরগির খামার। এই খামার থেকে বর্তমানে ভালোই আয় হচ্ছে তার। ভিন্ন জাতের মুরগির খামার হওয়ায় আশপাশে সাড়াও ফেলেছে বেশ। ফাতেমা বেগমকে সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হতে সহযোগিতা দিয়ে এসেছে উন্নয়ন সংস্থা প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি।
ফাতেমা বেগম ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর যুক্ত হন প্রয়াসের ইউনিট-১ গোবরাতলা শাখার মৌসুমি সমিতির ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমে। দুই দফা ঋণও নেন। কিন্তু সে ঋণে উদ্যোক্তা হতে পারছিলেন না ফাতেমা বেগম। এরপর প্রয়াসের প্রাণিসম্পদ ইউনিট ফাতেমা বেগমকে বাড়ির আঙিনায় কাদাকনাথ মুরগির খামার গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করে। আর খামার গড়ে তুলতে তাকে অর্থ সহায়তা দেয় পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ফাতেমা বেগম বাড়ির আঙিনায় গড়ে তুলেন কাদাকনাথ মুরগির খামার।
খামার গড়ে তুলতে প্রয়াসের প্রাণিসম্পদ ইউনিট প্রথমে তাকে ৫০টি কাদাকনাথ মুরগির বাচ্চাসহ সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেয়। তার মুরগির খামারটি তত্ত্বাবধান করেন প্রয়াসের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মনোয়ার মাসুদ। তিনি বলেন, ফাতেমা বেগমকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করার জন্য আমরা তাকে ভিন্ন জাতের কাদাকনাথ বা ওষুধি মুরগির খামার গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করি। এজন্য মুরগির বাচ্চাসহ সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেয়া হয় তাকে। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ফাতেমাসহ আরো দুজনকে এ-বিষয়ক প্রশিক্ষণও দেয়া হয়।
ডা. মাসুদ আরো বলেন, ফাতেমা বেগমের খামারে সাড়ে পাঁচ মাস বয়স থেকেই ডিম দেয়া শুরু করেছে কাদাকনাথ মুরগি। এখন তিনি ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে খামারটিকে বড় করার স্বপ্ন দেখছেন। পাশাপাশি ডিম বিক্রি করেও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন ফাতেমা।
উল্লেখ্য, কুচ বর্ণের কাদাকনাথ জাতটি এরই মধ্যে সারাবিশ্বে ডিম ও মাংসের জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত। এ মুরগির ডিম ও মাংসে ফ্যাট-কোলেস্টেরলের পরিমাণ যৎসামান্য হওয়ায় উচ্চ রক্তচাপ বা হার্টের রোগীদের জন্য এর মাংস অতীব নিরাপদ একটি প্রোটিনের উৎস।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ফাতেমা বেগম বলেন, বর্তমানে তার খামারে ৪৫টি কাদাকনাথ মুরগি রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি মুরগি এক মাস যাবৎ ডিম দেয়া শুরু করেছে। তিনি জানান, প্রতি হালি ডিম ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। পাশাপাশি মোরগও বিক্রি করছেন। দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের প্রতিটি মোরগ বিক্রি করছেন ১২০০-১৫০০ টাকায়, বলেন ফাতেমা বেগম।
ফাতেমা বেগমের স্বামী কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। তিনিও স্ত্রী ফাতেমার খামার দেখভাল করেন। এক ছেলের মা ফাতেমা বেগমের এখন ইচ্ছে, খামারটিকে আরো বড় করে তোলা।
যোগাযোগ করা হলে প্রয়াসের লিফট প্রকল্পের ফোকাল পারসন ডা. শাহরিয়ার কামাল জানান, ফাতেমা বেগমের খামারটিকে গড়ে তুলতে সকল ধরনের কারিগরি সহায়তা দিয়েছে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি। আর আর্থিক সহায়তা দিয়েছে পিকেএসএফ। এ কর্মকর্তা আরো জানান, এছাড়া ইনকিউবেটরে বাচ্চা ফোটানোর ক্ষেত্রে প্রয়াস ফাতেমা বেগমকে সরাসরি সহায়তা দিচ্ছে।