দরিদ্রতা কখনো শিক্ষা অর্জনে বাধা হতে পারে না : প্রয়াসের শিক্ষাবৃত্তি বিতরণকালে তাজকির-উজ-জামান

চাঁপাইননবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এ.কে.এম তাজকির-উজ-জামান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “আমরা যারা স্টুডেন্ট আমাদের একটা জেদ থাকতে হবে আমরা কিছু একটা করব। সর্বপ্রথমে আমাদের ভাবতে হবে, আমি কি হতে চাই। আমাদের স্বপ্নের জায়গাটা কখনো ছোট করে দেখব না। আমাদের সকলকে পড়তে হবে, জানতে হবে। দরিদ্রতা কখনো শিক্ষা অর্জনে বাধা হতে পারে না। যারা এখনো পৃথিবীতে জ্ঞানী ব্যক্তি আছেন, তারা সবাই ধনী লোক ছিলেন না। দরিদ্রতা আগেও ছিল এখনো আছে। সুতরাং আমি কি করব সেই সম্পর্কে আমার একটা সুনির্দিষ্ট ধারণা থাকতে হবে। তিনি বলেন- তোমাদের এই সময়টা হচ্ছে লেখাপড়া করার সময়। এখন তোমরা মন খুলে পড়। তোমাদের এমনভাবে জ্ঞান অর্জন করতে হবে, যাতে নিজের যা সম্পদ আছে সেগুলোকে কাজে লাগতে পারি।
আজ বুধবার উন্নয়ন সংস্থা প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রয়াসের নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে এ.কে.এম তাজকির-উজ-জামান আরো বলেন, আমি প্রয়াসকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, এমন একটি শুভ উদ্যোগ নেয়ার জন্য। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, “তোমার জন্য এই পৃথিবীটা উন্মুক্ত। তুমি একজন বিশ্ব নাগরিক হও, সময় খুব অল্প। তোমাদের পড়ার যে সময় সেটাকে জীবনভরে উপভোগ করো, চাপ নিও না। লক্ষ্য স্থির করো, লাইব্রেরির সকল বই পড়ে শেষ করব।”
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, “পৃথিবীতে যারা বড় বড় মিলেনিয়র রয়েছেন, কারো বাবাই বিত্তবান ছিলেন না। সবার বাবাই এইরকম গরিব ছিলেন। আলোর যে ছটা, এটা যেমন সবাইকে উদ্ভাসিত করে, সবাইকে আন্দোলিত করে। এই আলোর ছটা হচ্ছ তোমরা। তোমরা দেশটাকে পাল্টে ফেলতে পারো। আজ থেকে আমরা যতদিন বাঁচব, এসো আমরা প্রতিজ্ঞা করি, কাজ করব। আমরা সবাই দেশের জন্য কাজ করব।”
বিকেলে প্রয়াসের নকীব হোসেন মিলনায়তনে এ শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে ২০১৮ ও ২০১৯ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মোট ৬৩ জন অতিদরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ১২ হাজার টাকা করে মোট ৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। বৃত্তি পাওয়া ৬৩ জনের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২০১৯ সালে উত্তীর্ণ এইচএসসি ১ম বর্ষের ৪৪ জন, ২০১৮ সালে উত্তীর্ণ এইচএসসি ২য় বর্ষের ৪২ জন রয়েছেন। মোট ৮৬ জনকে এ শিক্ষাবৃত্তি দেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষাবৃত্তির টাকা তুলে দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ.কে.এম তাজকির-উজ-জামান।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা ১ম বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় একই সহায়তা পেয়েছিলেন। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)’র সহযোগিতায় প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সমিতির দরিদ্র সদস্যদের মেধাবী ছেলে-মেয়েদের মাঝে এই শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বুধবার ৬৩ জনের মধ্যে ৩০ জন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে প্রয়াসের নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনার বাবা-মা যেমন করে আপনাদের লেখাপাড়া করাচ্ছে, সেই বিনিময়ে তারা যেমন কোনো প্রতিদান চাইবে না; সেইরকমভাবে প্রয়াসও চায় আপনারা অনেক বড় হন, মানুয়ের মতো মানুষ হন।” তিনি আরো বলেন, “আমরা সবাই দেশমাতৃকার জন্য কাজ করব, আমার নিজের জন্য কাজ করব। আমার উন্নয়ন হলে, দেশেরও উন্নয়ন হবে। তবে অবশ্যই আমরা আমাদের দেশের উন্নয়নকে বেশি অগ্রাধিকার দিব।”
হাসিব হোসেন বলেন, “আমরা সবাই একসাথে হয়ে দেশের জন্য কাজ করব। বাংলাদেশের উন্নয়ন- আমাদের সর্বআগে এবং সর্বশেষ কথা। আমরা বাংলাদেশকে অবশ্যই উন্নত ও ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে দেখতে হবে। সেই জায়গাতে কিভাবে কন্ট্রিবিউট করতে পারি, স্বপ্ন দেখতে পারি; সেই জায়গা থেকে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।” এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে মানুষের জন্য কাজ করেন সফল হন।
বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রয়াসের পরিচালক মুখলেছুর রহমান, সহকারী পরিচালক (নিরীক্ষণ) আবুল খায়ের খান, কনিষ্ঠ সহকারী পরিচালক মু. তাকিউর রহমান, প্রোগ্রাম ম্যানেজার আব্দুস সালামসহ অন্যরা।