প্রয়াস ফোক থিয়েটারের গম্ভীরায় মুগ্ধ হলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাণ খুলে হাসলেন। অভিভূত হলেন, হলেন মুগ্ধ। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিলেন প্রাণবন্তই। শনিবার যারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান দেখেছেন, তাদের এ দৃশ্য চোখে পড়েছে।
পাঁচ মিনিট পুরোটা সময়জুড়ে আনন্দে উদ্বেলিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখেছে দেশবাসী। মুজিববর্ষে বাড়তি আনন্দ এনে দেয় গম্ভীরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা দেখে তিনি যারপরনাই মুগ্ধ হন। নানা-নাতির পরিবেশনায় হেসেছেনও প্রাণ উজাড় করে। গম্ভীরায় নানার মুখে ‘মাদার অব ভিটামাটি’ শুনে প্রধানমন্ত্রী হেসে ফেলেন। শনিবার ৫ মিনিটে চমৎকার গম্ভীরা পরিবেশন করেন প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউটের শিল্পীরা। ৫ মিনিটেই সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন নিপুণভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হন গম্ভীরা শিল্পীরা।
গুধার সংসার সচক্ষে দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আসার আমন্ত্রণের বিষয়টিও নজর কেড়েছে সবার।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে শনিবার সারাদেশে ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান করা হয়। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রদান করা হয়েছে ১ হাজার ৩১৯টি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ ঘরবাড়ি প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
এ উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের সল্লা গ্রাম সেজেছিল বর্ণিল সাজে। ছিল উৎসবের আমেজ। ৩৬ গৃহহীন পরিবারের চোখে-মুখে ছিল প্রশান্তির ছাপ। স্থায়ী ঠাঁই পাওয়ায় এ প্রশান্তি।
সল্লা গ্রামে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গৃহ হস্তান্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শুরুতেই চমকের আয়োজন করে সদর উপজেলা প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতি নিয়ে প্রথমেই আয়োজন করা হয় জেলার ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা পরিবেশনের।
অনুমতি দেয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭৪ সালে প্রথম গম্ভীরা শুনেছি। সেই সময় নাটোর গিয়েছিলেন আব্বা অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেখানে নানা-নাতি এসে তাদের গম্ভীরা পরিবেশন করেছিলেন। এটা অবশ্যই এখন আমরা শুনব। খুব ভালো।’
এরপর গম্ভীরা পরিবেশন শুরু করেন প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউটের শিল্পীরা। তারা সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ ১০ উদ্যোগ, ডিজিটাল বাংলাদেশসহ বিভিন্ন উন্নয়ন তুলে ধরেন।